হোম > সারা দেশ > বরিশাল

সরকার ৬ মা‌সে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘এই সরকার ছয় মা‌সে বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর ছিল ইরান যুদ্ধ। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যে তেলের দাম বাড়েনি। আমরা চেষ্টা করেছি সব শেষে বাড়াতে। আজকে যাঁরা গুপ্ত-সুপ্ত আছেন, তাঁরা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।’

আজ রোববার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন। যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, প্রতিটি হত্যার বিচার করা হবে।

আসাদুজ্জামান বলেন, ১/১১-এর সময় খালেদা জিয়াকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল, দেশ ছেড়ে গেলে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং রাজনীতি করতে হবে না। এমনকি তাঁর দুই সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। অন্যদিকে আরেক নেত্রী দেশের কথা না ভেবে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিগত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একসময় ‘লাল টেলিফোনের’ মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল। সেই সংস্কৃতি দূর করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. জয়নুল আবেদিন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেস্টা অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন প্রমুখ।

পরে আইনমন্ত্রী আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে বরিশাল বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দেন। এ সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।