ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে জনবল নিয়োগে বরিশাল সদর উপজেলায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে আজ রোববার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী। তখন সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়।
রোববার বেলা ১১টা থেকে বরিশাল সদর উপজেলা চত্বরে বিভিন্ন ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানার কার্যালয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও সুপারভাইজার পদপ্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ জানান, তিনি সায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন সুপারভাইজার হিসেবে আবেদন করেছেন। অথচ সদর উপজেলা বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়কের সুপারিশে যাকে ওই পদে নেওয়া হয়েছে, তিনি এইচএসসি পাস। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী সুপারভাইজার পদে বিএ পাস হতে হবে। তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন মোট ৯৯ জনের মধ্যে ১৫-২০ জন নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী এবং তাদের স্বজন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রোববার সদর উপজেলায় তাঁরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরওয়ার আসলে তাঁর কাছেও এই অভিযোগ জানিয়েছেন।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেজান মাহমুদ বলেন, চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের কর্মী আ.হক তথ্য সংগ্রহকারী পদে সুযোগ পেয়েছেন।
চন্দমোহন ইউনিয়নে যুবলীগ নেতার স্ত্রী মুনিয়া সুযোগ পেয়েছেন। অথচ যেসব ছাত্রদল কর্মী এত বছর মামলা হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।
সায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হোসেন বলেন, সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন থেকে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের লোকজন সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা রোববার বেলা ১১টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রতিবাদ করেছেন। পরে ইউএনও তাঁদের কাছে আওয়ামী লীগে সম্পৃক্তদের তালিকা চেয়েছেন।
এ ব্যপারে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য আমরা তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে কিছুসংখ্যক লোক নিয়োগ করছি। এ জন্য আবেদনকারীর মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মেধা ভিত্তিকভাবে ৯১ তথ্য সংগ্রহকারী, ৮ সুপারভাইজারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার কিছুসংখ্যক যুবক নিজেদের ছাত্রদল দাবি করে উপজেলায় এসেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল যে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু আমরা দলীয় ভিত্তিতে কাউকে সুযোগ দিইনি। নিষিদ্ধঘোষিত দলের কেউ যুক্ত আছে, এমনটা লিখিতভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।