সর্বানন্দ মধু। বায়োস্কোপ দেখান সেই ৩০ বছর বয়স থেকেই। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর। এখনো রঙিন বাক্সটি নিয়ে ছোটেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বগলে ডুগডুগি, হাতে করতাল আর কাঁধে বায়োস্কোপের বাক্স নিয়ে মানুষকে বিনোদন দেন রঙে-ঢঙে। কখনো বায়োস্কোপ দেখানো বন্ধ থাকলে হাট-বাজারে কবিরাজি মলম ও ইঁদুর মারার ওষুধও বিক্রি করেন।
বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাগধা গ্রামের বাসিন্দা সর্বানন্দ মধু অবশ্য ‘কায়দার কায়দা’ নামেই বেশ পরিচিত। ৫০ বছর আগে যশোরের বেনাপোলে কাঠমিস্ত্রির কাজে গিয়ে ১৮ টাকায় বায়োস্কোপটি কিনেছিলেন। এর নাম দিয়েছিলেন ‘কায়দার কায়দা বায়োস্কোপ’। সেই থেকে বদলে গেছে তাঁর নাম, সঙ্গে পেশাও।
সর্বানন্দের কথার ছন্দে আকৃষ্ট হয়ে শিশু-কিশোররা পেছন পেছন ছুটে বায়োস্কোপ দেখতে। প্রথম দিকে জাতীয় পতাকা, মুক্তিযুদ্ধ, বিশ্বের দর্শনীয় স্থান ও পশুপাখিসহ নানান চিত্র বায়োস্কোপে দেখাতেন। বিনিময়ে চাল বা ৫-১০ পয়সা নিতেন। এখন অবশ্য গুনতে হয় ১০ টাকা। কেউ কেউ খুশি হয়ে একটু বেশিও দেন। এতে দিনে তাঁর আয় ১০০০-১২০০ টাকা।
শুধু শিশু-কিশোরই নয়, সর্বানন্দের ‘কায়দার কায়দা বায়োস্কোপ’ দেখেন নানান বয়সের লোকজন। লাল বাক্সের সামনের দিকে চোঙার মতো কয়েকটি মুখ, প্রত্যেক মুখেই লেন্স লাগানো। বাক্সের ভেতর দুটি কাঠিতে মোড়ানো কাপড়ে থাকে ছবি। কাঠির ওপরের মাথায় বাক্সের বাইরে একটি হ্যান্ডেল লাগানো। হ্যান্ডেল ঘোরালেই ছবিসহ কাপড়টা একপাশ থেকে গিয়ে অন্য পাশে প্যাঁচাতে থাকে। তখন চোঙায় চোখ লাগিয়ে ছবি দেখা যায়। এর সঙ্গে কাঠের করতাল বা ডুগডুগি বাজিয়ে সুরের ছন্দে সর্বানন্দ দেন মজার ধারাবর্ণনা।
মিনাল সমদ্দার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সর্বানন্দ মধু ‘কায়দার কায়দা’ বলে বলে বিভিন্ন ছন্দে বায়োস্কোপ দেখান। এতে তাঁর নাম হয়ে গেছে ‘কায়দার কায়দা’। তিনি একজন সৎ ও সাদা মনের মানুষ।
সর্বানন্দ মধু জানান, অভাব অনটনে তিনি একসময় নিজের লেখাপড়ার বই বিক্রি করে চাল কিনে খেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেলা বা অনুষ্ঠানে বায়োস্কোপ দেখিয়ে ভাইবোন ও সন্তানদের লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি জায়গা-জমিও কিনেছেন। প্রযুক্তির এই যুগে এসেও বায়োস্কোপ দেখিয়ে ভালোই চলছে তাঁর সংসার। নামের মতোই সবকিছুতে আনন্দ পান সর্বানন্দ।