হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বরিশাল-ভোলা নৌরুট: আ.লীগ নেতার নৌযান চলায় আপত্তি লঞ্চ মালিক সমিতির

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুল হক আক্কাস। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল-ভোলা নৌরুটে দৌলতখানের এক আওয়ামী লীগ নেতার লঞ্চ চলাচল করছে। তাতে আপত্তি তুলেছে বরিশালের লঞ্চ মালিক সমিতি। তাদের অভিযোগ, নিকটাত্মীয় বিএনপি নেতাকে দুটি লঞ্চ ভাড়া দিয়ে বরিশাল-ভোলা নৌপথে রুট পারমিট নেওয়া হয়েছে। এটা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের চেষ্টার শামিল।

আজ সোমবার বরিশাল নৌবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুল হক আক্কাস।

লঞ্চমালিকদের অভিযোগ, এমভি ইমানত-২ ও এমভি ইমানত-৪ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ সম্প্রতি বরিশাল-ভোলা নৌপথে চলাচলে বিআইডব্লিউটিএ রুট পারমিট দিয়েছে। এ দুটি লঞ্চের মালিক হলেন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন সেক্রেটারি খায়রুজ্জামান ফয়সাল। আওয়ামী লীগ আমলে লঞ্চ দুটি ভোলার চরআলেকজান্ডার থেকে মীজাকালু রুটে একচেটিয়া ব্যবসা করেছে। ৫ আগস্ট পরিবর্তনের পর ওই রুটে চলতে পারছে না।

লঞ্চমালিকদের অভিযোগ, ফয়সালের শ্যালক হলেন ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম ও যুবদল নেতা ইয়ারুল ইসলাম লিটন। শ্যালক লিটনকে কাগজপত্রে লঞ্চ দুটি ভাড়া দিয়েছেন ফয়সাল। লিটন প্রভাব খাটিয়ে বিআইডব্লিউটিএ থেকে রুট পারমিট নিয়ে লঞ্চ দুটি বরিশাল-ভোলা পথে চালাচ্ছেন।

মালিকদের ভাষ্য, এ রুটে ২০টি লঞ্চ ৪৫ মিনিট পরপর চলত। নতুন দুটি যুক্ত হওয়ায় তাঁরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তা ছাড়া মালিক সমিতির মতামত না নিয়ে দুটি লঞ্চের রুট পারমিট দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ বিধি অমান্য করেছে। দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল না হলে আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলেছেন লঞ্চমালিকেরা।

আওয়ামী লীগ হলে লঞ্চ ব্যবসা করতে কেন পারবে না—এমন প্রশ্নের জবাবে লঞ্চমালিকেরা উল্টো অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে তাঁদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হয়েছে।

লঞ্চ দুটি ভাড়া নেওয়া ভোলার যুবদল নেতা ইয়ারুল ইসলাম লিটন জানান, তিনি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোক্তার হোসেন যৌথ ব্যবসা করার জন্য লঞ্চ দুটি ভাড়া নিয়েছেন। সব কাগজপত্র বৈধ থাকায় রুট পারমিট পেয়ে ১৫ দিন আগে থেকে বরিশাল-ভোলা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছেন।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. সলেমান জানান, মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে রুট পারমিট দিতে হবে—এমন কোনো লিখিত বিধান নেই। দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বিষয়ে মালিক সমিতি আদালতে মামলা করেছে। বিআইডব্লিউটিএ শোকজের জবাব দিয়েছে। এখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।