হোম > সারা দেশ > বরিশাল

‘প্রাথমিক শাখা’ চালুর গুজবে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

অধ্যক্ষকে ঘিরে ধরে কথা বলছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শাখা চালুর গুজবের ওপর ভিত্তি করে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও বিক্ষোভের অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসে ক্লাস বর্জন করে তারা অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অ্যাসেম্বলি শেষের পরপরই কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানে পুনরায় প্রাথমিক শাখা (তৃতীয় শ্রেণি থেকে) চালু করার পাঁয়তারা চলছে। এতে কলেজের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা জানিয়েছেন, প্রাথমিক শাখা চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সম্পূর্ণ গুজবের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভের একপর্যায়ে একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কক্ষে ঢুকে তাঁকে ঘিরে ধরে এবং উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে।

দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম দাইয়াম অধ্যক্ষের টেবিলের সামনে গিয়ে এক শিক্ষকের নাম ধরে জবাবদিহি চাইলে অধ্যক্ষ তাকে শান্ত হতে বলেন এবং শিক্ষককে সম্মান দিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করেন। এতেও ওই শিক্ষার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজেরই কয়েকজন শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে জুঁই আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘কিছু জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলনে নামানো হয়েছে। কার নির্দেশে ও কোন স্বার্থে প্রাথমিক শাখা বন্ধ করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রকাশ করতে হবে।’

ঘটনার পেছনে প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা বলেন, ‘২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হতো। তবে সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে ভর্তি বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিণ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে অভিভাবকদের দাবির মুখে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান। মূলত এর পর থেকেই একদল শিক্ষার্থী ভুল বুঝে আন্দোলনে নামে।’

অধ্যক্ষ আরও জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৫ জন এবং খণ্ডকালীন (অতিথী) শিক্ষক দিয়েই একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক ও স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুন খন্দকার বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছে। তবে প্রাথমিক শাখা চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কোন তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামল, তা খতিয়ে দেখা হবে।’