বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী-শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। আজ সোমবার সকালের দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সন্ধ্যায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বোমা বিস্ফোরণের স্থান পরিদর্শন করেছে বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ সন্ধ্যায় শেবাচিম হাসপাতালে দগ্ধ তিনজনের খোঁজখবর নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দগ্ধ ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। তা ছাড়া আমাদের বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার নিজে ঘটনাস্থলে তদারকি করছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকালের দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে রহস্যজনক এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৪৫), মেয়ে ইতি আক্তার (১৮) ও নাতি মো. ফাহিম দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমানকে বিকেল থেকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মো. মাসুম বিল্লাহ সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম পরিদর্শন করেছে। তারা সেখানকার নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করেছে, এটি আইইডি টাইপের বোমাসদৃশ বস্তু। অর্থাৎ, স্থানীয়ভাবে প্যাঁচানো তার, জর্দার কৌটাসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে বানানো বোমা হতে পারে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল তালুকদার বলেন, ‘ঘরের পাশে রাখা বালুর বস্তার মধ্যে একটি বোমার মতো বস্তু বিস্ফোরিত হয়। তাতে মা, বোন ও ভাগনের শরীরে আগুন ধরে যায়। বিস্ফোরকটি কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তাওহিদ বলেন, বিকেলে র্যাব ও সেনাবাহিনীর টিমকে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। তাদের ধারণা, স্থানীয়ভাবে একটি পক্ষ শপিং ব্যাগে বোমাটি রেখেছিল। এটা যে বোমা, তা নিশ্চিত।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বোমায় কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।