বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভংগা গ্রামের আলী খার হাট থেকে আজিমপুর কাজিরহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চারদলীয় জোট সরকারের সময় সড়কটিতে ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্ষাকালে কাদা ও খানাখন্দে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর তথ্যে জানা গেছে, কাজিরহাট থানার আওতাধীন ভংগা গ্রামের এই সড়ক ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয়। পরে চারদলীয় সরকারের আমলে চার কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই সময়ে এক কিলোমিটারও ইট বিছানো হয়নি এবং বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এরপর বহু বছর পার হলেও সড়কটির উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা আর খানাখন্দে ভরে যায়। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে, বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
ভংগা তালিমুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জাকির হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কাজিরহাটের ১ নম্বর আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভংগা গ্রামের আলী খার হাট থেকে আজিমপুর কাজিরহাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক যেন দুর্ভোগের আরেক নাম। বহু আগে একাংশে ইট বিছানো হলেও তা বিলীনের পথে। এই সড়ক দিয়ে মধ্যভংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভংগা তালিমুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা, নুরানি মাদ্রাসার ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়মিত আসা-যাওয়া করে। গত ১৭ জুন সড়ক প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বর্ষায় রাস্তার করুণ দশার কথা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এমনকি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে। কিন্তু আজীবনই বেহাল হয়ে রইল সড়কটি।’
এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিলেও জয়ের পর আর উদ্যোগ নেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানও প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনো উদ্যোগ নেননি।
ভংগা গ্রামের ইউপি সদস্য হুমায়ুন মোল্লা বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বহু বছর আগে এই রাস্তায় ইট বিছানোর কথা ছিল। কিন্তু ওই বরাদ্দ কী হয়েছে, জানা নেই। বর্ষায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিদারুণ কষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, রাস্তাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। জনদুর্ভোগের এই দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না বলেও তারা মন্তব্য করে।
এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম রাকিব জানান, তাঁরা কোনো সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিলে পুরোটাই পাকা করেন। এই সড়কের ক্ষেত্রে তাঁর দপ্তর থেকে প্রাক্কলন প্রস্তুত কিংবা দরপত্র আহ্বান এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সড়ক প্রতিমন্ত্রীকে এলাকাবাসীর অবহিত করার বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।