বরিশালের ঐতিহ্যবাহী পর্যটনস্পট দুর্গাসাগর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে বরিশাল সদর ও বাবুগঞ্জ উপজেলাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের কাছে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বরিশাল শহর সংলগ্ন বাবুগঞ্জের মাধবপাশার দুর্গাসাগর দিঘি অন্যতম একটি পর্যটনস্পট, যা পাখির অভয়ারণ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। ঐতিহ্যবাহী এ স্থান ইজারা দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ব্যবহারের সুযোগ হারাবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। শৌখিন মৎস্যশিকারিদের জন্য দুর্গাসাগরই একমাত্র সরকারি স্পট। এটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে বরিশালে সরকারিভাবে মৎস্য শিকারের আর কোনো জায়গা থাকবে না।
জনসাধারণের স্বার্থ বিবেচনায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিঘি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করে দুর্গাসাগরের অবকাঠামো সংস্কার এবং এটিকে শিশু, পর্যটক ও শৌখিন মৎস্যশিকারীবান্ধব করে তোলার দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ইনজামুল হক শুভ ও মো. সাকিল হোসেন বলেন, ‘দুর্গাসাগর দিঘি বরিশালবাসীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান। বর্তমানে দিঘিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু এটি ব্যক্তি সাধারণের কাছে লিজ দেওয়া হলে প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। ব্যক্তি সাধারণ লিজ নিলে দ্রুত মাছ বৃদ্ধির জন্য দিঘিতে কীটনাশক সার ব্যবহারসহ জাল ফেলবে। এতে পাখির অভয়াশ্রম রক্ষা করা যাবে না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর বরিশাল সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, ‘জনগণের সম্পত্তি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। দুর্গাসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা সরকারের দায়িত্ব। বাণিজ্যিক আকারে লিজ দিলে এটি ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাতে দুর্গাসাগরে পাখির অভয়াশ্রম, বন, মাছ থাকবে না। আমরা চাই এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থাকুক।’
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুর্গাসাগর ইজারা দিলে এর দর্শনার্থী ফি বেড়ে যাবে। বাণিজ্যিকভাবে দেখভাল হলে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য থাকবে কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে। এটা ইজারা দেওয়া উচিত নয়।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্মারকলিপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মারযুক রহমান রিফাত স্বাক্ষরিত গত ২ জুনের একটি সরকারি স্মারকে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১০ মে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাসাগর দিঘি ও পাখি অভয়ারণ্যের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সভা হয়। ওই সভায় দুর্গাসাগর দিঘি এবং পাখি অভয়ারণ্য প্রকল্প ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।