হোম > সারা দেশ > বরিশাল

ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীরা ফিরেছে শ্রেণিকক্ষে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা চালুর গুজবকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা শিক্ষার্থীরা ভুল বুঝতে পেরেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহার কক্ষে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম দাইয়ামসহ তার সহযোগীরা। পরে অধ্যক্ষ তাদের ক্লাসে ফিরে নিয়মিত পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন। পরে তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে।

জানা গেছে, আজ সকালে তাহমিন ইসলাম দাইয়ামসহ একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে। এ সময় তাহমিন অধ্যক্ষকে বলে, ‘আপনি মাফ করেছেন, বলেন?’ জবাবে অধ্যক্ষ তাদের জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মাফ তো করবই, তোমরা আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তানের বয়স তোমাদের চেয়ে অন্তত পাঁচ-ছয় বছর বেশি। আমি অনুরোধ করব, তোমরা ক্লাসে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করো।’

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা জানান, শিক্ষার্থীরা হয়তো তাঁকে বুঝতে ভুল করেছে। তিনি বারবার তাদের বলেছেন, প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা হয়তো বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘আগের দিনের ঘটনার জন্য শিক্ষার্থীরা যেমন অনুতপ্ত, তেমনি আমারও খারাপ লাগছে। তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলেছি এবং নিজেই শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে দিয়ে এসেছি।’

বরিশাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসে ক্ষমা চেয়েছে। বর্তমানে ক্লাস চলছে।

এর আগে, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা চালু হচ্ছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে, কলেজটিতে প্রাথমিক শাখা চালুর দাবিতে আজ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন একদল অভিভাবক। তাঁদের দাবি, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই প্রাথমিক শাখা চালু ছিল। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে হঠাৎ সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবছর সরকারি স্কুলগুলোতে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৮ থেকে ৯ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করে। এই অবস্থায় মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখা বন্ধ থাকলে ভর্তির জন্য ১১০টি আসন কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।