হোম > সারা দেশ > বরিশাল

শাপলা বিক্রিই কর্মহীনদের আয়ের উৎস

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 

শাপলা সংগ্রহ করে ভ্যানে তুলছেন কৃষক। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের আগৈলঝাড়ার বিলাঞ্চলের মানুষের কাছে বর্ষা ছিল কর্মহীনতার মৌসুম। কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কমে গেছে কাজ। তবে সেই পানিই এখন অনেক পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। বিনা পুঁজিতে পানি থেকে শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি করে কেউ কেউ দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে উপজেলার বিল-ঝিল, খাল-বাঁওড়, কৃষিজমি পানিতে ডুবে আছে। সেই পানিতে শাপলা ফুটেছে। নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করছেন অনেকে। সেই শাপলা স্থানীয় পাইকারেরা কিনে নিয়ে ভ্যানে করে বিভিন্ন হাট-বাজার এবং গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করছেন। শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি করে উপজেলার রাজিহার, গৈলা, বাকাল, বাগধা ও রত্নপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক শ মানুষ সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাঢ় থেকে ভাদ্র এই চার মাস পানি থাকে। তখন পানিতে শাপলা ফুটে। একেকজন প্রতিদিন ২০০-২৫০ মুঠি শাপলা সংগ্রহ করতে পারেন। এতে কেউ কেউ দিনে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করতে পারেন। স্থানীয়ভাবে শাপলা সবজি হিসেবেই খাওয়া হয়। শাপলার ডাঁটা দিয়ে তৈরি তরকারি গ্রামাঞ্চলে খুব পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে শহরেও শাপলার চাহিদা বেড়েছে।

চেংগুটিয়া-চৌদ্দমেদা বিল থেকে শাপলা সংগ্রহকারী মো. শাহ আলম বলেন, বর্ষায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন কৃষিকাজ তেমন নেই। তাই ভোরে নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে শাপলা সংগ্রহ করি। দিনে ২০০-৪০০ মুঠি শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। পাইকারদের কাছে মুঠি প্রতি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি।

পাইকার অসিম মন্ডল বলেন, শাপলা সংগ্রাহক থেকে ৫ টাকায় কিনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুঠি প্রতি ১০ টাকা বিক্রি করি। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মুঠা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে ভালোই আয় থাকে।

শাপলা সংগ্রহকারী মজিবুর রহমান বলেন, বছরের প্রায় চার মাস পানি থেকে শাপলা তুলতে পারি। শাপলা বিক্রি করেই সংসারের খরচ চালাই। কোনো পুঁজি লাগে না, তাই বর্ষায় শাপলা সংগ্রহ করে বিক্রিই আমাদের জন্য বড় ভরসা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা বলেন, শাপলা প্রচলিত কৃষিপণ্যের আওতাভুক্ত নয়। তবে সবজি হিসেবে বিক্রি করে অনেকে আয় করছেন। শাপলা যেন কিছুটা বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে সংগ্রহকারীদের পরামর্শ দেওয়া হবে।