বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের মাত্র নয় দিনের মাথায় মো. মনিরুজ্জামানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পৌঁছায়। এর পর তাঁর অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করে কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গত ২৬ জুলাই থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। রোববার সকালে তারা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বদলির খবর পাওয়ার পর দুপুরে তালা খুলে দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ৩০ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপনে মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আজ সকালে প্রজ্ঞাপনটি বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পৌঁছে।
জানা গেছে, মো. মনিরুজ্জামান গত ২৪ জুলাই বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের দুই দিনের মাথায়, ২৬ জুলাই, তাঁর অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। সেদিন শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে তিনি আর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রতিটি কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হয়ে যেতে বলেন। পরে সবাই বের হলে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী ছাত্র অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি বলেন, ডা. মনিরুজ্জামানের বদলির খবর পাওয়ার পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং প্রধান ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত সিভিল সার্জনের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।