হোম > সারা দেশ > বরিশাল

হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ‘জামাই আদরে’ জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

মুলাদী থানা, বরিশাল। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের মুলাদীতে আলোচিত আল আমিন হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাওসার আকনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও মাত্র এক রাত থানায় রেখে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালতের আদেশের পরদিন সন্ধ্যায় আসামিকে থানায় এনে পরদিন সকালেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি নিহতের পরিবারের। এতে মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

নিহত আল আমিনের মা ও মামলার বাদী ডালিয়া বেগমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর বরিশালের আদালত হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে ওই দিন তাঁকে থানায় না এনে পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর এক রাত থানায় রাখার পর ৯ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডালিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত আমার ছেলে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ওই দিন থানায় না এনে পরদিন সন্ধ্যায় আনে। মাত্র এক রাত থানায় রেখে গতকাল বুধবার সকালেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হলো। আসামিকে আদৌ কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, নাকি জামাই আদরে রাখা হয়েছিল—তা নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে প্রহসনমূলক জিজ্ঞাসাবাদে সত্য উন্মোচিত হবে না। পুলিশ যেভাবে আসামিকে সুবিধা দিচ্ছে, তাতে মামলার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’

তবে রিমান্ডের সময়সীমা নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নিয়ম অনুযায়ী রিমান্ড মঞ্জুরের দিন থেকেই দিন গণনা শুরু হয়। মেয়াদ শেষে আজ (বুধবার) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা ও নিয়ম মেনেই আসামিকে থানায় এনে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সময়মতো আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের মৃত হানিফ হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদারের (২৫) সঙ্গে মোটরসাইকেল কেনাবেচার পাওনা টাকা নিয়ে স্থানীয় আজিজুল সরদারের বিরোধ ছিল। গত ১৭ মে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আল আমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়।

পরে কাওসার আকন (৩৪), আজিজুল সরদারসহ (২৮) কয়েকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আল আমিনের বুকের বাঁ পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা আজিজুল সরদারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনায় আল আমিনের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় কাওসার আকনকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ঢাকায় অভিযান চালিয়ে কাওসার আকনকে গ্রেপ্তার করে। ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।