হোম > সারা দেশ > বরিশাল

অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা: বরিশালে বকেয়া বেতন না পেয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বন্ধের আড়াই মাসেও বকেয়া বেতন-ভাতা পাননি শ্রমিকেরা। সোমবার রাতে এর প্রতিবাদে নগরীর আমানতগঞ্জে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন বঞ্চিত শ্রমিকেরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা।

‎‎বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা জানান, হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে আড়াই মাস পার হলেও বেতনসহ অন্যান্য পাওনা বুঝে পাননি। এতে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা। অনেক শ্রমিকের সংসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো, সন্তানের পড়াশোনা ও বাসাভাড়া পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

‎‎শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা বন্ধের পর পাওনা পরিশোধের বিষয়ে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে তাঁদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাঁরা কলকারখানা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন কারখানায় কাজ করেছি। এখন কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আয়রোজগারও বন্ধ। আড়াই মাস ধরে পাওনা টাকা না পেয়ে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমরা কোনো অনুদান চাই না, কাজের ন্যায্য পাওনাটুকু চাই।’

অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করা বাসদ নেতা মনীষা চক্রবর্তী বলেন, কারখানা বন্ধের আড়াই মাস হলেও শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর আশ্বাস দিলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

যদিও এ নিয়ে জেলা প্রশাসন, কলকারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছিল। এই শ্রমিকদের পথে বসিয়ে দিয়েছে মালিক কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে কলকারখানা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেনি। যে কারণে আজ সন্ধ্যার পর থেকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

তবে এ বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, শ্রমিকেরা দাবিদাওয়ার কারণে সড়কে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে আশ্বাসে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন।