হোম > সারা দেশ > বরিশাল

জুয়া খেলতে নিষেধ করায় স্ত্রীকে মারধর, ক্ষোভে গৃহবধূর আত্মহত্যা

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

বরিশালের মুলাদী থানা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মুলাদীতে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া ও মারধরের অভিযোগের পর কীটনাশক পান করে তাসমিয়া (১৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামের খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামী মো. নাঈম খানকে গ্রেপ্তার করেছে মুলাদী থানা-পুলিশ।

তাসমিয়া বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের খলিলুর রহমান তোতা রাড়ী ও আলমতাজ বেগম দম্পতির মেয়ে। নাঈম খান মুলাদী উপজেলার দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামের দেলোয়ার খান ও রিনা বেগম দম্পতির ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নাঈম খানের সঙ্গে তাসমিয়ার বিয়ে হয়। নাঈম মালয়েশিয়াপ্রবাসী। গত ২ আগস্ট দেড় মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর আবার প্রবাসে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি রিনা বেগম ও ননদ হাফিজা বেগম বিভিন্ন অজুহাতে তাসমিয়াকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। প্রবাস থেকে আনা ব্যবহার্য জিনিসপত্রও তাসমিয়াকে ধরতে দেওয়া হতো না বলে দাবি করেন তাঁর মা।

নিহতের মা আলমতাজ বেগম জানান, নাঈম খান গভীর রাত পর্যন্ত তাস ও জুয়া খেলায় লিপ্ত থাকতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বাগ্‌বিতণ্ডা হতো।

আলমতাজ বেগমের ভাষ্য, গতকাল গভীর রাতে জুয়া খেলে বাড়ি ফেরেন নাঈম। তাসমিয়া এর প্রতিবাদ করলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাঈম তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। আজ সকালে নাঈম ও তাঁর মা রিনা বেগম প্যাদারহাট বন্দরে গেলে ঘরে একা থাকা তাসমিয়া গ্যাস ট্যাবলেট (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড) পান করে। বাড়ি ফিরে খাটের ওপর তাসমিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা খলিলুর রহমান তোতা রাড়ী বাদী হয়ে নাঈম খানসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা করেন।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড সাধারণত কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই কীটনাশক পান করেই গৃহবধূর মৃত্যু ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং প্রধান আসামি নাঈম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।