হোম > সারা দেশ > বরিশাল

মুলাদীতে ইমামকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন আহত ইমাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের মুলাদীতে সরকারি অনুদানের মুয়াজ্জিন তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না করায় এক ইমামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট সিকদার বাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইমামের নাম মুফতি মাহফুজুর রহমান (২৯)। প্যাদারহাট সিকদার বাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের ইমাম তিনি। তিনি কাজিরচর ইউনিয়নের বড়ইয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন রাড়ীর ছেলে। তাঁকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বিকেলে আহত ইমামের বাবা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ডিক্রীরচর গ্রামের মিজান সিকদার (৪৫) ও তাঁর ছেলে রাকিব সিকদার (১৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অনুদান দেওয়ার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে উপজেলার সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের তালিকা আহ্বান করা হয়। প্যাদারহাট সিকদার বাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের তালিকায় ইমাম মাহফুজুর রহমান মুয়াজ্জিন হিসেবে নূরে আলম সিকদার নামের এক ব্যক্তির নাম পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হন একই পদে তালিকাভুক্ত-প্রত্যাশী রাকিব সিকদার ও তাঁর বাবা মিজান সিকদার। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমামের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, আজ ফজরের নামাজ শেষে ইমাম মাহফুজুর রহমান মসজিদ থেকে বের হওয়া মাত্রই মিজান সিকদার ও তাঁর ছেলে রাকিব সিকদার তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ইমামকে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের মসজিদ হওয়ায় আমাদের এখানে নির্দিষ্ট কোনো বেতনভুক্ত মুয়াজ্জিন নেই। নূরে আলম সিকদার ও রাকিব সিকদার—দুজনেই আজান দিয়ে থাকেন। তবে নূরে আলম বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ায় মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নামই তালিকায় দেওয়া হয়েছে।’

ইমামকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে মিজান সিকদার জানান, তাঁর ছেলে রাকিবই নিয়মিত আজান দিতেন। ইমাম ইচ্ছে করেই রাকিবের নাম বাদ দিয়েছেন। তবে হাতুড়িপেটার ঘটনা না ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।