বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা না ভেবে পেশাগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এম জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, তবে এর শেকড় অনেক গভীরে। এটাকে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে না নিয়ে আপনারা পেশাগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করবেন। পুলক নিজের জীবন দিয়ে এই পেশাগত সংকটের গভীরতা দেখিয়ে দিয়ে গেল।’
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর উত্তর মল্লিক রোডের প্রয়াত সাংবাদিকের বাসভবনে গিয়ে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকতার পেশাগত সুরক্ষা ও মর্যাদার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে আমি এই খাতের ভেতরের বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছি। সাংবাদিকতা পেশা মানুষকে মর্যাদাবান করে। অন্য পেশায় কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রধান হলেও সাংবাদিকেরা বেতনের নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদা দুটোই চান।’
সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিকদের দ্বিমুখী স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মালিক ও সাংবাদিক—দুই পক্ষের স্বার্থ নিশ্চিত করে একটি বাস্তবসম্মত ওয়েজবোর্ড প্রয়োগের লক্ষ্যে কাজ চলছে। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া বেশ কিছুটা এগিয়েছে। আমাদের এই কাজের সঙ্গে পুলকের অকাল মৃত্যুর একটি পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।’
পরে তিনি পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা চ্যাটার্জি ও মেয়ে প্রকৃতি চ্যাটার্জির খোঁজখবর নেন এবং উপস্থিত সকলকে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির, সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম খসরুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর প্যারা রোডের দৈনিক সমকাল কার্যালয়ের ভেতর থেকে পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তাঁর লেখা পাঁচটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়।