হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বরিশাল বিএম কলেজ: বিসিএস শিক্ষকদের বাধায় যোগদান করতে পারেননি অধ্যাপক আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

ফাইল ছবি

বিসিএস শিক্ষকদের বাধায় সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে আজ রোববারও যোগদান করতে পারেননি অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ। আজ দিনভর অর্ধশত শিক্ষক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্রদের পৃথক দুটি অংশ প্রশাসনিক ভবনের নিচে অবস্থান নিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা ব্যক্তি নয়, ক্যাডার মর্যাদা রক্ষায় যোগদানে বাধা দিয়েছেন। তিনি (আজাদ) মন্ত্রণালয়ে উৎকোচ দিয়ে উপাধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে এনেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ একাই অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীকেও নিয়ে আসেন। তবে কোনো শিক্ষক ছিলেন না। এরপর সারা দিনে একাধিকবার তিনি প্রশাসনিক ভবনে এলেও অর্ধশত বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের অবস্থানে যোগদান করতে পারেননি।

দুপুরের দিকে অধ্যাপক আজাদকে নন-ক্যাডার পদায়ন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, আওয়ামী সুবিধাভোগী আখ্যা দিয়ে একদল ছাত্রদল নেতা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেন। একই সময়ে অধ্যাপক আজাদ অনুসারী ছাত্রদলের অপর একটি অংশ সেখানে এলে দুই পক্ষে হাতাহাতি ও বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। এতে উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদল কর্মী আকবর মুবিন অভিযোগ করেন, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ১০ শতাংশ কোটায় আসা নন-ক্যাডার শিক্ষক। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। তাঁর এই পদায়ন কলেজকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। শোনা যাচ্ছে, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি পদটি বাগিয়েছেন। এমনকি কলেজে যোগদান করতে তথাকথিত কিছু ছাত্রনেতার সঙ্গে গোপনে বৈঠকও করেছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য চরম অপমানজনক।

তবে নতুন উপাধ্যক্ষের অনুসারী কলেজের  ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. বাইজিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই স্যারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা তাঁর পক্ষে আছি এবং সার্বিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর যেসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ছাত্রদলের একটি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল শনিবার রাতে অধ্যাপক আজাদের বাসায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা যান। সেখানে আড়াই লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে যোগদান করিয়ে দেওয়ার শর্তে অধ্যাপক আজাদের সঙ্গে কয়েকজন নেতার যোগসাজশ ঘটে।

জানতে চাইলে কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং ক্যাডার মর্যাদা রক্ষায় ২০১৭ সাল থেকে নেওয়া বিসিএস নন-ক্যাডার ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছি। বিএম কলেজে ১৮০ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ কোটায় আত্তীকৃত ওই শিক্ষককেই কেন উপাধ্যক্ষ করতে হবে? দেশের যেকোনো কলেজ থেকে একজন বিসিএস ক্যাডারকে বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ক্যাডারভুক্ত সিনিয়র শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নন-ক্যাডার আবুল কালাম আজাদকে মানব না।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, অধ্যাপক আজাদের সঙ্গে একজন শিক্ষকও যোগদানের সময় আসেননি। তাতে বোঝা যায়, কলেজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেই।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন, বৃহস্পতিবার যোগদান করতে পারেননি, রোববার যোগদান করার চেষ্টা করবেন।

এ ব্যাপারে সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম বলেন, উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের আজও যোগদান সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, কলেজের বিসিএস শিক্ষকদের তাঁর বিষয়ে নানা আপত্তি আছে।