বরিশাল বিএম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম) ও অশ্বিনীকুমার হল (ডিগ্রি) থেকে কয়েকজন ছাত্রশিবির কর্মীকে মারধর করে বের করে দিয়েছেন।
ছাত্রদল দাবি করেছে, সাধারণ ছাত্ররা গুপ্তদের হল থেকে বিতাড়িত করেছে। তাদের ছাত্রদলের কয়েক কর্মীও আহত হয়েছেন। এদিকে এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে বরিশাল বিএম কলেজে আজ মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনার জেরে ছাত্রদলের একদল কর্মী কলেজের ডিগ্রি হল ও মুসলিম হলে ঢুকে কয়েকজন শিবির কর্মীকে গুপ্ত দাবি করে বের করে দেন।
এ নিয়ে দুই দলে উত্তেজনা দেখা দিলে ছাত্রদল মসজিদ গেটে অবস্থান নেয়। সেখানে ছাত্রদলের বিপ্লবসহ কয়েকজন কর্মী শিবির ট্যাগ দিয়ে ২-৩ জনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গণ-অভ্যুত্থানের ২ বছর পূর্তিতে মুক্তকণ্ঠ নামক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন মঙ্গলবার বিকেলে শহীদ মিনারে কর্মসূচির আয়োজন করলে তা বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাতে অবস্থান করছে।
ছাত্রশিবির বিএম কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি মো. শাহেদ বলেন, বিকেলে ছাত্রদল ডিগ্রি ও মুসলিম হলে ঢুকে শিবিরের কর্মীদের মেরে বের করে দিয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনা চলছে।
তবে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিকেলে শিবিরের কিছু ছেলে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করে। এ খবরে সাধারণ ছাত্ররা ডিগ্রি ও মুসলিম হলে গিয়ে শিবির কর্মীদের বের করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, যত দূর জানা গেছে, সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে শিবিরের নেতা-কর্মীরা জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ মো. তাজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, একটু উত্তেজনা হয়েছিল বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে। সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। ছাত্রদল ও শিবির দুই পক্ষে ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে তাদের নজরদারি রয়েছে।