বরিশালের সরকারি কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পদায়ন করেছে সরকার।
এ নিয়ে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাঁরা বলছেন, মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে এ ধরনের পদায়ন বাগানো হচ্ছে।
সূত্রমতে, ১৯৯০ দশকে সরকার ১৮টি মহিলা কলেজকে একযোগে সরকারি করে। অপর দিকে ১০ শতাংশ কোটায় সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান কিছুসংখ্যক নন-ক্যাডার শিক্ষক। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন কলেজে এমন শিক্ষক রয়েছেন ২৪ জন। আর বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কলেজে প্রায় এক হাজার বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক রয়েছেন অন্তত ১০০ জন। সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন না করে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পদায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি নগরের অন্যতম ৩টি সরকারি কলেজেও নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়। এ নিয়েই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে।
বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে গত ২২ জুলাই উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন নন-ক্যাডার অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম। কিন্তু বিসিএস শিক্ষকেরা বাধা দেন। এ বিষয়ে হাতেম আলী কলেজের অধ্যাপক খান শাহিনুল হক বলেন, ‘মেহবুবা আত্তীকৃত নন-ক্যাডার শিক্ষক। ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার দায়িত্ব নিতে পারেন না। তা ছাড়া তাঁর চেয়ে সিনিয়র শিক্ষক এ কলেজে আছেন।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সরকারি বিএম কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদকে এবং সরকারি মহিলা কলেজে নন-ক্যাডার অধ্যাপক মু. আব্দুস সালাম হাওলাদারকে পদায়ন দেওয়া হয়। এই পদায়নে ক্ষোভে ফুঁসছেন বিসিএস শিক্ষকেরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএম কলেজ ও মহিলা কলেজের দুজন অধ্যাপক বলেন, সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে নন-ক্যাডারদের এই পদায়নে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা চব্বিশের অভ্যুত্থান ও জাতীয়তাবাদী আদর্শবিরোধী। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় টাকা দিয়ে পদায়ন নিয়েছেন ওই শিক্ষকেরা।
জানতে চাইলে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, নন-ক্যাডার শিক্ষকদের এ ধরনের পদায়নে তিনি উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। বরিশালের অনেক সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে এ ধরনের পদায়ন প্রশ্নবিদ্ধ।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সুবিদখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, বিভাগে নন-ক্যাডার ২৪ জন। অথচ ক্যাডার শিক্ষক এক হাজার। বিএম কলেজে অনেক বিসিএস অধ্যাপক আছেন। অথচ এখানে দেনদরবার করে নন-ক্যাডার একজনকে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। বিসিএস শিক্ষকেরা তাঁকে যোগদান করতে দেবেন না।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন বিএম কলেজ ইউনিট সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান বলেন, মামলার রায় অনুযায়ী নন-ক্যাডার শিক্ষকেরা এভাবে পদায়ন পেতে পারেন না। বিএম কলেজে যিনি আসছেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটকে টাকাপয়সা দিয়ে পদায়ন বাগিয়েছেন। কলেজের শিক্ষকেরা অধ্যক্ষকে যোগদান না করানোর কথা বলেছেন।
বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, এ কলেজের ১৮০ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৫ জন পদায়ন পাওয়া শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এ থেকেই বোঝা যায়, এই উপাধ্যক্ষের গ্রহণযোগ্যতা কতটা। শিক্ষকদের চাপের মুখে বৃহস্পতিবার অধ্যাপক আবুল কালাম যোগদান করতে পারেননি। রোববার শিক্ষকেরা নন-ক্যাডার শিক্ষকের ওই পদায়ন রুখে দেবেন।
জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।’ যদিও পরে আর ফোন ধরেননি তিনি।
এ ব্যাপারে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কলেজে শিক্ষকদের বড় অংশই সরাসরি বিসিএস ক্যাডার। নন-ক্যাডার আবুল কালাম আজাদকে পদায়ন দেওয়ায় শিক্ষকেরা আমার কাছেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন; যে কারণে তাঁকে এখন পর্যন্ত যোগদান করানো হয়নি।’