হোম > সারা দেশ > বরিশাল

মুলাদীতে মা-বাবাকে জিম্মি করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

গতকাল রাতে বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে মুলাদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের মুলাদীতে মা-বাবাকে জিম্মি করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছেলে আল আমিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁর মা ছায়েরা বেগম (৬০)।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুলাদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরডিক্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আল আমিনের বাবা আব্দুর রব হাওলাদারকে (৭২) দিয়ে চারটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে মুলাদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার। এ সময় তাঁরা জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং স্বাক্ষর করা সাদা স্ট্যাম্প উদ্ধারের দাবি জানান।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে স্থানীয় শাহজাহান ওরফে সাজু (৫১) ও ইদ্রিসুর রহমানের (৩৫) সঙ্গে আব্দুর রব হাওলাদারের বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ বিরোধের জেরে শাহজাহান ও ইদ্রিসুর রহমান কৌশলে আব্দুর রবের ছেলে আল আমিনকে দিয়ে তাঁদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, বুধবার রাতে শাহজাহান ওরফে সাজু, আল আমিন ও ইদ্রিসুর রহমানের নেতৃত্বে তিন-চারজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রব হাওলাদারের বসতঘরে প্রবেশ করেন। তাঁরা প্রথমে পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। বৃদ্ধা ছায়েরা বেগম ও তাঁর স্বামী এর প্রতিবাদ করলে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে আল আমিন তাঁর মা-বাবাকে জিম্মি করেন। পরে অন্যরা জোর করে আব্দুর রব হাওলাদারকে দিয়ে চারটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করান বলে অভিযোগ করা হয়। দম্পতির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁরা মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ছায়েরা বেগম বাদী হয়ে ছেলে আল আমিন, প্রতিবেশী সাজু ব্যাপারীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজাহান ওরফে সাজু ব্যাপারী বলেন, মারধর বা জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আল আমিন তাঁর বাবার কাছে টাকা চেয়েছিলেন, কিন্তু টাকা না দেওয়ায় এ নিয়ে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘বয়োজ্যেষ্ঠ দম্পতিকে মারধর ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’