ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল ফকির পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী রেশমা আক্তার রুবা দুই দিন আগে পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। দুর্ঘটনায় রুবার শ্বশুরও মারা যান। তবে রুবা অল্পের জন্য বেঁচে যান। ঈদুল ফিতরে বরিশালে বাড়ি ফিরতে গিয়ে গত ১৭ মার্চ ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় নিহত হন সোহেল ফকির ও তাঁর বাবা মিরাজ ফকির। তাঁরা সাভারের ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। নিহত সোহেলের স্ত্রী রুবা নগরীতে বাবার বাসায় অর্থকষ্টে দিন পার করছেন।
জানা গেছে, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ ফকির। ছেলে সোহেল ও পুত্রবধূ রুবাকে নিয়ে তিনি ঢাকায় থাকতেন।
ঈদুল ফিতরের উৎসবে বাড়িতে ফেরার জন্য ১৭ মার্চ বিকেলে ঢাকার সদরঘাটে আসেন তাঁরা। ট্রলার থেকে তাঁরা লঞ্চে ওঠার সময়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে সোহেল ফকির ঘটনাস্থলে নিহত হন। বাবা মিরাজ ফকির বুড়িগঙ্গায় পড়ে গেলে পরদিন মরদেহ উদ্ধার হয়। ওই দুর্ঘটনায় সাত মাসের গর্ভবতী সোহেলের স্ত্রী রুবা গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থ হয়ে বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবজাগরনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকে পিত্রালয় মীরা বাড়িতে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পিত্রালয়ে রেশমা আক্তার রুবা পুত্রসন্তান প্রসব করেন। নাম রাখা হয়েছে মো. রাইয়ান ইসলাম। রুবা জানান, তিনি গর্ভবতী হওয়ার পর স্বামী সোহেলের ইচ্ছা অনুযায়ী নবজাতকের নাম রাখা হয় রাইয়ান। তবে নবাগত সন্তানের আগমন এই পরিবারে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
রুবার বাবা রিয়াজ মীর দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট দুটি ভাই রয়েছে। বাবার অভাব-অনটনের সংসারে তিনি এখন বোঝা হয়ে গেছেন।
রুবার নানি নাজমা বেগম জানান, ঢাকার হাসপাতালে কয়েক মাস রেখে রুবার চিকিৎসা হয়। ওষুধ কেনার খরচ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তবে ঢাকায় থাকা ও আসা-যাওয়া খরচসহ দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ধারদেনা করতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ একাধিকবার ঢাকায় নিয়েছে। পরে জানিয়ে দেয়, প্রতিমন্ত্রী এলাকায় বসে ক্ষতিপূরণের টাকা হস্তান্তর করবেন। তবে এখন পর্যন্ত কিছুই পাননি তাঁরা।