বরিশালের মুলাদীতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে আত্মীয়ের বাড়ি আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক আ. রব মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা দায়েরের পর গত সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। অভিযুক্ত আ. রব মুন্সি সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থীর বাবার ফুফাতো ভাই এবং তাঁরা একই বাড়িতে বসবাস করেন। গত ৬ আগস্ট ওই শিক্ষার্থী আ. রব মুন্সীর পুত্রবধূর সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। আ. রব মুন্সী তাঁর পুত্রবধূকে রেখে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৭ ও ৯ আগস্ট মুলাদী উপজেলার একটি গ্রামের বসতঘরের বারান্দায় ওই শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই দফা ধর্ষণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে সেই ঘরে আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীকালে শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কৌশলে বাড়ি থেকে বের হলে ১০ আগস্ট স্থানীয়দের সহায়তায় সফিপুরের একটি বাজার এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানায়। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে আ. রব মুন্সীকে আসামি করে সোমবার বিকেলে মুলাদী থানায় মামলা করেন।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, এজাহার পাওয়ার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।