হোম > সারা দেশ > বরিশাল

যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন, প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর বড় ভাইকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 

প্রতীকী ছবি

বরিশালের মুলাদীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে খলিল হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর বড় ভাই হারেছ সিকদারকে হাতুড়িপেটা করে গুরুতর জখম এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের সোনামদ্দিন বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হারেছ সিকদার বাদী হয়ে আজ শনিবার দুপুরে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের ফালান সিকদারের মেয়ে সুমা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে খলিল হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে খলিল বিভিন্ন সময় সুমা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ।

সুমা বেগমের ভাষ্য, সম্প্রতি খলিল হাওলাদার তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে সুমার বাবা ফালান সিকদার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাঁর সামনেও সুমাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ফালান সিকদার মেয়েকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরবর্তীতে সুমাকে মারধরের বিষয় নিয়ে হারেছ সিকদারের সঙ্গে খলিল হাওলাদার ও তাঁর বড় ভাই হাবিব হাওলাদারের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে হারেছ সিকদার তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা ধার নিয়ে সোনামদ্দিন বন্দর হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বোয়ালিয়া গ্রামের মোশাররফ বেপারীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা খলিল হাওলাদার ও তাঁর বড় ভাই হাবিব হাওলাদারের নেতৃত্বে ৩-৪ জন তাঁর পথরোধ করেন। পরে তাঁরা হারেছ সিকদারের ওপর হামলা চালান।

হারেছ সিকদার ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে রাতেই মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিব হাওলাদার মারধরের ঘটনা স্বীকার করলেও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।