বরিশালে নৌযান শুমারি উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেছেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষে মাছ শিকারের পদ্ধতিতে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক মাছ শিকার করা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় এ দেশের জেলেরা অন্যান্য দেশের জেলেদের তুলনায় মাছ আহরণে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে।
এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাওয়া জেলেরা দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রাণহানির শিকার হন। আজ বুধবার নগরীর সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি জেলেদের নিরাপত্তায় স্যাটেলাইট, রাডার, জিপিএস ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে দুর্যোগকালীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে অনেক জেলে অকালে মারা যান।
সভায় তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনায় রয়েছে গভীর সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষা করতে তাদের একটি করে ওয়াকিটকি অথবা মোবাইল ফোন দেওয়া হবে। স্যাটেলাইট ও রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কাছে দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের বোটে সোলার প্যানেল থাকবে, যাতে তারা মোবাইল চার্জ করতে পারেন। জেলেদের জিপিএস ব্যবহারে পারদর্শী করা হবে বলেও জানান তিনি।
কাঠের তৈরি নৌকাগুলো যেন স্বল্প টাকায় রেজিস্ট্রেশন পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিভাগীয় কমিশনার।
জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি ড. মোঃ সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, উপ পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লাহ।
অনুষ্ঠানে নৌযান শুমারির প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিসের যুগ্ম পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান।
বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সব নৌযান, ডাম্ববার্জ এবং অন্য কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান দ্বারা চালিত নৌযান শুমারির আওতায় থাকবে।
উল্লেখ্য, ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করি’ স্লোগানে আগামী ২০-২৯ আগস্ট ২০২৬ ‘নৌযান শুমারি’ অনুষ্ঠিত হবে।