বরিশালের মুলাদীতে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর শিশু সিদরাতুল মুনতাহা জাফরিনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাছুয়া ইউনিয়নের পদ্মারহাটের খালের কুব্বাত ব্যাপারীর বাড়ির সামনে থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের স্থান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা।
গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সে নিখোঁজ হয়েছিল।
জাফরিন (১৫ মাস) মুলাদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরডিক্রী গ্রামের মোল্লা ব্রিজ এলাকার মো. জয় মোল্লার মেয়ে। পরিবার নিয়ে তারা ঢাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ আগস্ট ঢাকা থেকে মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের হোসনাবাদ বাঁশতলা এলাকায় শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে নানা রতন আকনের বাড়িতে বেড়াতে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নানাবাড়ির আঙিনায় খেলার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু জাফরিন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে স্বজনরা ধারণা করেন, শিশুটি বাড়ির পার্শ্ববর্তী পদ্মারহাট খালে পড়ে থাকতে পারে। এরপরই মুলাদী ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সংবাদ পেয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরিশাল ফায়ার সার্ভিস থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে খালে তল্লাশি শুরু করে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ বন্ধ করে ফিরে যায়।
শিশুটির স্বজন কাওসার মোল্লা জানান, প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে জাফরিনের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা সংবাদ দেন। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
মুলাদী ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা (টিম লিডার) আবুল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই ডুবুরি দল শনিবার রাতে ও রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছে। নিখোঁজের দুই দিকে ১ কিলোমিটার করে প্রায় ২ কিলোমিটার তল্লাশি করা হয়েছে। কিন্তু স্রোতে শিশুটির মরদেহ প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চলে গিয়েছিল।