বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আড়িয়াল খাঁ নদে পড়ে যাওয়ায় মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও চরম লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন ৩৩ হাজার ভোল্টের তারটি নদে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ গ্রাহকরা হঠাৎ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। পরে বিকল্প লাইনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মুলাদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, নদীতে বিদ্যুতের তার পড়ে গেলেও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বড় বড় ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনভর তৎপরতা চালান। বিকেল ৬টার দিকে নদী থেকে তারটি উদ্ধার করে টাওয়ারে তুলতে সক্ষম হন তারা।
মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম আরিফ বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোরে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে পল্লী বিদ্যুতের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিপর্যয়ের সংবাদ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার কলেজ এলাকায় ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ ছিল না।’
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মুলাদী আঞ্চলিক অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ইনস্যুলেটর ক্র্যাক হয়ে তার নদে পড়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎকর্মী ও কর্মকর্তারা সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন কাজ করেছেন। বিকেলে নদীর পানি থেকে তার টাওয়ারে তোলা হয়েছে।
মো. বেলায়েত হোসেন আরও জানান, ‘বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখা হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক সরবরাহ পেতে আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। এ সময়ে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।’ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ধৈর্যের সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।