বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বসতঘরের মেঝেতে ‘জেগে ওঠা’ সেই আলোচিত দুটি কবর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঋণের চাপে পড়ে প্রতারণার উদ্দেশে নিজেই কবর দুটি তৈরি করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সজীব বেপারী।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের অভিযানে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দিয়েই কবর দুটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রশাসনের কাছে মুচলেকাও দিয়েছেন সজীব।
ঘটনাটি উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের। এর আগে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে হঠাৎ দুটি কবর ‘জেগে ওঠার’ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাড়িটিতে চলছিল ঝাড়ফুঁক, তেলপড়া ও কথিত চিকিৎসার কার্যক্রম। কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর বলে দাবি করেছিলেন সজীব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করে আসছিলেন। গত ২৬ অক্টোবর তাঁদের বসতঘরের মেঝেতে দুটি ‘জেগে ওঠে’ বলে প্রচার করা হয়। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বাড়িতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খানের নেতৃত্বে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় কবর দুটি তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেন সজীব। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দিয়েই সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযুক্ত সজীব বেপারী জানান, তাঁরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশে নিজেরাই কবর দুটি তৈরি করেছিলেন। এভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়েছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল বলেন, গণমাধ্যমে কবর নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। সজীব নিজেই কবর তৈরির দায় স্বীকার করেছেন এবং নিজের হাতে তৈরি কবরগুলো ভেঙে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবেন না বলে তিনি মুচলেকা দিয়েছেন।