বরগুনার পাথরঘাটায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বরফের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরফকল মালিকদের বিরুদ্ধে। মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি বরফকল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট জেলেসহ মৎস্য ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত দামে বরফ বিক্রি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে আগে যে বরফের একটি ক্যান ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। এতে মাছ সংরক্ষণে বিপাকে পড়েছেন জেলে, পাইকার ও আড়তদারেরা। বরফের সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকারি বাজারে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন পাইকার ও আড়তদার সমিতির নেতারা।
পাথরঘাটা বিএফডিসি পাইকার সমিতির নেতা জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর পাথরঘাটা বিএফডিসিতে মৎস্য ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বরফ সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন। প্রতিদিন অতিরিক্ত দামে বরফ কিনতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী চাহিদামতো বরফ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জাকির হোসেন আরও বলেন, গত ১৫ দিনে অতিরিক্ত দামে বরফ কেনার কারণে আমাদের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। আমরা এই অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
এদিকে বরফকল মালিকদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরফকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম বাড়ার কারণে বরফ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। এ কারণে কিছু কিছু বরফকল মালিক বেশি দামে বরফ বিক্রি করছেন। তবে এর সঙ্গে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত নয়।