সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে বরগুনা পৌরসভার উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় অডিটরিয়াম মিলনায়তন (টাউন হল)। ভবন নির্মাণ হলেও ভেতরের আনুষঙ্গিক কাজ বাকি। সে কারণে ছয় বছর ধরে পড়ে আছে ভবনটি। ব্যবহার না হওয়ায় চুরি হয়ে গেছে দরজা-জানালা। পরিণত হয়েছে গোয়ালঘর ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে।
বরগুনায় ২০টির অধিক সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি অডিটরিয়াম নির্মাণের। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শহরের সিরাজউদ্দীন সড়কে নির্মাণ করা হয় প্রায় ৫০০ আসনের পৌর অডিটরিয়াম মিলনায়তন (টাউন হল) ভবন। কিন্তু কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় পড়ে আছে ভবনটি। মানুষের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হওয়ার বদলে অসম্পূর্ণ এই মিলনায়তন এখন পরিণত হয়েছে গোয়ালঘর ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে।
বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের কাছে টাউন হল নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। খেলাঘর বরগুনা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যেই টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য আলাদা কক্ষ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় সাংস্কৃতিক সংগঠন কিংবা পৌরবাসী এর কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।
বরগুনা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, সভা-সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে প্রায় ৫০০ আসনের টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে শুরু হয় টাউন হল নির্মাণের কাজ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। ২০২০ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালের দিকে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন অংশ খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
জেলা শ্রমিক আন্দোলনের সাবেক সভাপতি গোলাম হায়দার স্বপন বলেন, টাউন হলটি পুরোপুরি নির্মাণ করা সম্ভব হলে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সভা-সমাবেশ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন অনেক সহজ হতো। তাঁর অভিযোগ, সাবেক পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজের সময় রাজনৈতিক বিরোধের কারণে প্রকল্পটির কাজ আর শেষ হয়নি। কাজ শেষ না হওয়ায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি এখন গরু-ছাগলের খোঁয়াড়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসম্পূর্ণ ও অরক্ষিত ভবনটির বিভিন্ন অংশ এখন গরু-ছাগল রাখার খোঁয়াড় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মানুষের নিয়মিত যাতায়াত না থাকায় জায়গাটি অনেকটা নির্জন হয়ে পড়েছে। সেই সুযোগে মাদকসেবীদেরও নিয়মিত আড্ডা চলে। ফলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নির্মিত ভবনটি এখন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের জায়গা হয়ে উঠছে।
বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ্ বলেন, নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদার প্রায় ৪ কোটি টাকা বিল নিয়েছেন। কাজ শুরু হলে প্রশাসক অথবা মেয়র প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের ব্যবস্থা করে দেবেন।
এ বিষয়ে বরগুনা পৌর প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমরা একাধিকবার ঠিকাদারকে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু এরপরও তাঁরা বাকি কাজ শুরু করেননি।’