বরগুনার আমতলীতে ধানের বীজ কিনে বিপাকে পড়েছেন দুই শতাধিক কৃষক। ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষ করে চার মাসেও আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। ধারদেনা করে চাষাবাদ করা কৃষকদের এখন আউশের পর আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য জাতের বীজ বিক্রি করেছেন। এ ঘটনায় ডিলারের শাস্তি দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ছারিকাটা এলাকার দুই শতাধিক কৃষক গত এপ্রিলে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। পরে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ব্রি-৯৮ জাতের ধানবীজ ক্রয় করেন। ওই বীজ দিয়ে চারা প্রস্তুত করে জমিতে রোপণ করেছেন। ওই জাতের ধান ১১০ দিনে ফলন পাওয়ার কথা। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষকদের অভিযোগ, বীজ ডিলার খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ধানবীজ ক্রয় করে তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ধারদেনা করে জমি চাষাবাদ করে ফলন না পাওয়ায় তাঁরা নিঃস্ব।
কৃষকেরা জানান, ডিলার মো. খালেক তাঁদের কাছে ব্রি-৯৮ ধানের নামে অন্য ধানের বীজ বিক্রি করেছেন। চারা রোপণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। ফলে আউশ মৌসুমের পর জমিতে আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেন, ‘আট একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু ওই ধানে কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করব, সেই অবস্থাও নেই। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি, এখন আমার পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।’
কৃষক দেলোয়ার গাজী বলেন, ‘মোরা নিঃস্ব হয়ে গেছে। মোরা কি খামু, কইতে পারি না। মোরা ডিলার খালেক হাওলাদারের শাস্তি দাবি হরছি।’
মো. রনি আহমেদ নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘ব্রি-৯৮ ধান রোপণ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেছে। কৃষকদের পথে বসার মতো অবস্থা।’
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কৃষি আমার মূল পেশা। ধান চাষের আয় দিয়ে সারা বছর পরিবার চালাতে হয়। সেই ধান হয়নি। আমরা আউশ-আমন দুই মৌসুমে ধান চাষ করি কিন্তু এ বছর কোনো মৌসুমেই ধান হবে না।’
বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার কৃষকদের কাছে ব্রি-৯৮ জাতের ধানবীজ বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আয়ান সিডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।’
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা সরেজমিনে দেখতে আসবেন।’
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।