বরগুনার তালতলীতে আন্ধারমানিক নদীর তীরে প্রায় ৩২ ফুট দীর্ঘ একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছে। আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাছে এই মৃত তিমিটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা।
খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশাল আকৃতির তিমিটি দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। স্থানীয়দের ধারণা, বঙ্গোপসাগর থেকে স্রোতের সঙ্গে ভেসে তিমিটির মরদেহ আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় পৌঁছেছে।
খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমিটির মরদেহ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন। সকাল থেকে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর তীরে ভিড় করে তিমিটি দেখেন।
পরিবেশকর্মী ও কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির আরিফুর রহমান বলেন, ‘উপকূলে বারবার তিমি, ডলফিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৃত তিমিটির হাড় সংরক্ষণ করে গবেষণা ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। অবশিষ্টাংশ দ্রুত মাটিচাপা দেওয়া না হলে পচে গিয়ে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হতে পারে।’
তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘কলাপাড়া ও তালতলীর সীমান্তবর্তী আন্ধারমানিক নদীর দিকে মৃত তিমিটি ভেসে যাচ্ছিল। তিমিটিকে নিশানবাড়িয়ার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। সেখানে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তার আগে তিমিটির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন নমুনা সংরক্ষণ করা হবে।’
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ছবিতে দেখা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে এটি একটি বেলিন তিমি বলে মনে হচ্ছে। সম্ভবত এটি ব্রাইডস তিমি। বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির তিমি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া তিমিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। জালে আটকা পড়া, বড় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ, সামুদ্রিক দূষণ ও প্লাস্টিক গ্রহণ, অসুস্থ অবস্থায় স্রোতের টানে অগভীর পানিতে চলে আসাসহ বিভিন্ন কারণে তিমিটির মৃত্যু হতে পারে।’