সাত দিনের সন্তান রেখে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান মোহাম্মদ জান্নাতুল। তাঁর পরিবারকে সংবাদ প্রকাশের পর সেটি নজরে আসে ৩১৫ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরার ছোট মেয়ে হাছছানা নাদিরা সবুরের। জান্নাতুলের পরিবারকে সহায়তার জন্য তিনি একটি দোকান ঘর তৈরি করে সেখানে মালামাল তুলে দিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার "ক্যানসারে স্বামীর মৃত্যু, শিশু সন্তান নিয়ে গৃহবধূর কষ্টের জীবন" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আজকের পত্রিকায়। পাশাপাশি স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল পাথরঘাটা নিউজে ও মানবিক মিডিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এটি দেখার পরি হাছছানা নাদিরা সবুরের নজরে আসলে তিনি তার জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের আমড়াতলা গ্রামে এ মানবিক দোকান ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাছছানা নাদিরা সবুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাবির হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমানসহ প্রমুখ।
হাছছানা নাদিরা সবুর জানান, মূলত আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখেই এই অসহায় নারীকে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য সামান্য একটু চেষ্টা করেছি। যাতে করে দুই শিশু সন্তান নিয়ে দুবেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।
জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে গোলাম সবুর টুলু ফাউন্ডেশনের ও স্মৃতি সংসদ এর পক্ষ থেকে হাছছানা নাদিরা সবুর কর্মক্ষম মানুষের জন্য প্রায় ১৩টি দোকান তৈরি করে দিয়েছেন। যা দিয়ে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
উল্লেখ্য, বরগুনার পাথরঘাটায় দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে সাত দিনের একমাত্র ছেলেকে রেখে মৃত্যুবরণ করেছে মোহাম্মদ জান্নাতুল ফেরদাউস। মৃত্যুর পর থেকেই পাঁচ বছর বয়সী সন্তান সুমাইয়া ও নয় মাসের শিশু মোহাম্মদ মেহেদীকে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো মতে জীবন-যাপন করছেন জান্নাতুলের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (২৫)। মোহাম্মদ জান্নাতুল উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের আমড়াতলা গ্রামের শাহজাহান হোসেনের ছেলে। তিনি জীবিত থাকাকালীন বিদ্যুতের মেকানিক কাজ করতেন।