শৈশবের দুরন্তপনা, যৌবনে যার যার কর্মস্থলের ব্যস্ততা, বার্ধক্যের ভারে ঝুঁকে পড়ে অন্যের ওপর নির্ভর করে চলা। এমনটি জীবনের সংক্ষিপ্ত গল্প হলেও দুই বৃদ্ধের বন্ধুত্ব আজও টিকে আছে কিশোর বয়সের মতোই। হয়তো আগের মতো দিনে দু-তিন বার দেখা হয় না। তবে সপ্তাহে অন্তত একবার দেখা হয় জুমার নামাজে মসজিদে।
আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ কাজী ও পাথরঘাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মল্লিক। দুজনেরই বয়স ৮০ বছরের কোঠা ছাড়িয়ে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ কাজী করোনা পজিটিভ হওয়ায় দীর্ঘ এক মাস পর দুজনের দেখা হলো শুক্রবার জুমার নামাজের সময়। বরগুনার পাথরঘাটায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি অপরদিকে লকডাউনের কারণে যানবাহন না থাকায় বন্ধুকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে স্কুটিতেই রওনা দিয়েছেন দুজন।
বয়সের ভারে সালেহ কাজী ও সাইদুর রহমান মল্লিক ক্লান্ত হলেও দুই বন্ধুর সম্পর্ক আর একে অপরের প্রতি উদারতা দৃষ্টি কাড়ে আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির। গতকাল শুক্রবার পাথরঘাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী হয়।
আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ কাজী ও আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মল্লিক উভয়ই পাথরঘাটা পৌর শহরের বাসিন্দা। এরা দুজনই একসময় পাথরঘাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-মাদ্রাসা ও ধর্মীয় কাজের নেতৃত্ব দিতেন। বয়সের ভারে এখন বাড়িতেই থাকেন তাঁরা।
আবু জাফর সালেহ কাজী বলেন, আমাদের ছেলেবেলা থেকে বন্ধুত্ব। আমরা সম্পর্কে সালা দুলাভাই। বৃষ্টি ও লকডাউন যানবাহন না থাকায় দুলাভাই সাইদুর রহমান মল্লিক কে আমার স্কুটিতে বসিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি।
সাইদুর রহমান মল্লিক বলেন, আমাদের বয়সের লোক এলাকায় তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেকে মারা গেছেন। আল্লাহর শুকরিয়া আমাদের এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন। করোনার যে পরিস্থিতি চলছে, না জানি কোন দিন কী হয়। সকলের কাছে আমাদের জন্য দোয়া কামনা করছি।