হোম > সারা দেশ > বরগুনা

বরগুনার আমতলী: সড়ক সংস্কারে ‘অনিয়ম’ কাজ শেষের আগেই ধস

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 

চালিতাবুনিয়া খাল ঘেঁষে আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কে ধস দেখা যায়। গত শনিবার বরগুনার আমতলী উপজেলার কালীবাড়ি এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের অন্তত ২০০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। গত শুক্রবার উপজেলার কালীবাড়ি এলাকায় চালিতাবুনিয়া খাল ঘেঁষে সড়কে ধস দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুসারে ঠিকাদারের কাজ না করা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ অনিয়মের কারণে সড়কের এই হাল হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের আমতলীর কালীবাড়ি থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার অংশ সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগ। ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই কাজ সাব-কন্টাক্ট নেন আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান। কিন্তু সড়কের কাজ না করে ফেলে রাখেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। সেই কাজ এখনো চলমান।

গত শনিবার সকালে আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালীবাড়ি ও পাতাকাটা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খালের কিনারা ঘেঁষে সড়কের দুই স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশ ধসে গেছে। সড়কে মোটরসাইকেল চললেও বড় কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী জামান রাকিব বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও বেশ অনিয়ম করায় অন্তত ২০০ মিটার সড়ক চালিতাবুনিয়া খালে ধসে গেছে। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের কাজের অনিয়মের বিষয়ে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে ঠিকাদার আখতারুজ্জামান বাদল বলেন, ‘সড়ক খালে ধসে পড়েছে। আপনারা যা পারেন লিখে দেন। দেখি তাতে কী হয়?’

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সড়ক খালে ধসে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করছি। সড়ক ধসে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে বিশেষজ্ঞ টিম পরিদর্শনে আসবে।’

বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’