বরগুনার বামনা উপজেলায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এক যুবককে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার অযোধ্যা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত যুবকের নাম সাইফুল ইসলাম (২৫)। তিনি অযোধ্যা গ্রামের স্বপন হাওলাদারের ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের সুমাইয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে সাইফুলকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া।
ঘটনার তদন্তে অভিযুক্ত স্ত্রীর মুঠোফোনের কল তালিকার (কল লিস্ট) সূত্র ধরে বামনা থানা-পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাচ্চু মোল্লা নামে স্থানীয় একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটক করেছে।
স্বজনেরা জানান, শনিবার সকালে সাইফুলের দাদা আইয়ুব আলী বাড়িতে এসে নাতি ও নাতবউকে ডাকাডাকি করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং নাতবউকে ঘরে না দেখে সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সাইফুলকে নিস্তেজ অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন তিনি। পরে স্বজনেরা এসে থানা-পুলিশে খবর দেন।
অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সত্যতা ও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
বরগুনার বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ওসি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।