হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

নাইক্ষ্যংছড়িতে ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি

নিহত জাফর আলম বাবুল। ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের চাদুপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত ক্যায়াং ঘরের উঠান থেকে জাফর আলম বাবুল (৪৬) নামে এক গাছ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জাফর আলম বাবুল বাইশারী ইউনিয়নের তিতারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাদুপাড়ায় ধুংচাই মেম্বারের একটি পরিত্যক্ত ক্যায়াং ঘরের উঠানে জাফর আলম বাবুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ধুংচাই মেম্বারের সঙ্গে রাবার বাগানসংক্রান্ত টাকাপয়সার লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার আশঙ্কা করছেন।

তবে স্থানীয়দের এসব দাবি বা আশঙ্কার কোনোটি এখনো পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বাইশারী এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁরা এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ব্যবসায়ী হত্যার বিষয়টি পুলিশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। পাহাড়ি হোক বা বাঙালি—খুনিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নাইক্ষ্যংছড়ি দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির উপজেলা। অপরাধ করে এখন কেউ পার পাবে না।’