বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অপহৃত সাড়ে চার মাসের শিশুকন্যা মারুফা জান্নাত মাহিকে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় শিশুটিকে অপহরণের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বন্দর থানার কমিশনার গলি কাঁচাবাজার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার এবং ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) ও র্যাব-১৫-এর (কক্সবাজার) যৌথ আভিযানিক দল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র্যাব।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ভোলা সদর উপজেলার ভদ্রপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আলম ওরফে নুরুল আলম (৩০) এবং তাঁর স্ত্রী ত্রিশা ওরফে মারিয়া ওরফে সানজিদা আক্তার তিশা (২৫)।
র্যাব জানায়, অপহৃত শিশু মারুফা জান্নাত মাহি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ হালামীপাড়া গ্রামের মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াসমিন আক্তার দম্পতির মেয়ে। গত ২১ আগস্ট শিশুটিকে নিয়ে তার মা-বাবা নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় মারুফার ফুফু খালেদা বেগম ও ফুফা শফি উল্লাহর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে অভিযুক্ত নুরুল আলম ও তাঁর স্ত্রী ত্রিশার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়।
পরদিন ২২ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ত্রিশা পাশের ঘরে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে শিশু মারুফাকে কোলে নিয়ে বের হন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করেও শিশুসহ ওই দম্পতির কোনো সন্ধান পাননি।
র্যাবের তথ্যমতে, ২৬ আগস্ট দুটি মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির মায়ের কাছে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১-২ জনকে আসামি করে ২৬ আগস্ট নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মামলার এজাহারভুক্ত ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।