বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম সীমান্ত এবং কক্সবাজারের রামু সীমান্তে ইয়াবা পাচার ও লুটে কিশোরদের অন্তত ১০০ গ্যাং জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তে মাদক কারবারিদের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমের জঙ্গলাকীর্ণ ৪৫টি পয়েন্ট (স্থান) দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে ইয়াবা বড়ির বড় বড় চালান। বিশেষ করে সীমান্তের ৫৮, ৫৭, ৫৬, ৫৩, ৫২, ৫১, ৫০, ৪৯, ৪৭, ৪৮, ৪৬, ৪৪, ৪৩, ৪২, ৩৬, ৩৫, ৩৪, ৩৩ ও ৩১ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে নিয়মিত এসব মাদকের চালান আসছে। সীমান্তের আরও চার উপজেলা ঈদগাঁও, রামু, উখিয়া ও চকরিয়া হয়ে এসব মাদক দেশের বড় বড় শহরে ঢুকছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম এবং কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও চকরিয়া উপজেলায় কিশোরদের অন্তত ১০০ গ্যাং ইয়াবা কারবারিদের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা কেউ এ অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না।
সূত্র জানায়, একেকটি কিশোর গ্যাংয়ে ৫-১০ কিশোর-যুবক থাকে। তাদের বয়স ১২ থেকে ২৫ পর্যন্ত। তাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্রও আছে। অনেকে ডাকাতি করে। রামুর গর্জনিয়া, ঈদগড় ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে এ রকম অন্তত ছয়টি ডাকাত দল রয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সূত্রে জানা যায়, এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবার চালান জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে পাচারে সহায়তা করে। বিশেষ করে তারা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অপেক্ষমাণ বড় বড় পাচারকারী গডফাদারদের বুঝিয়ে দেয় চালানগুলো। বিজিবিকে ফাঁকি দিতে ৫ থেকে ১০ বার ইয়াবার চালান হাতবদল হয়। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত মোটরবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বা হেঁটে যায় পাচারকারীরা। বস্তা বা ছোট পুঁটলিতে লুকিয়ে ইয়াবা নিয়ে যায় তারা। আবার অনেক ক্ষেত্রে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবা লুট করে নিয়ে যায়। অবৈধ কাজ হওয়ায় এসব লুটের ঘটনায় মাদক কারবারিরা কোনো অভিযোগও করতে পারেন না।
কিশোর গ্যাংয়ের কয়েক সদস্য জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ইয়াবা পাচারের সময় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। মাঝেমধ্যে নিজেরা বিক্রির কাজ করে। যদি পাচারের কাজ করে লাভ না হয়, তখন তারা ইয়াবা লুটে জড়ায়।
গত ১ মাসে অন্তত ৫০টির বেশি ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার ঈদগড়, বাইশারী, মৌলভীকাটা, তিতারপাড়ার, ফাক্রিকাটা, আদর্শগ্রাম, দৌছড়ি, তুলাতলী, কাউয়ারখোপ, তুলাতলী-২, দোছড়ি, বালুবাসা, হাজিরপাড়া, ক্যায়জারবিলসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এসব ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, পুলিশ আসলে বেকায়দায়। কারণ সীমান্ত এলাকা অনেক দূরে। পুলিশ লোকালয়ে কাজ করে, সীমান্তে নয়। তারপরও কয়েক মাসে লোকালয় থেকে কয়েক কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কিশোর গ্যাং বা চোরাকারবারিদের অপতৎপরতা রোধেও সচেষ্ট পুলিশ। কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।