হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

বর্ষার দুর্ভোগ কাটিয়ে খুলল থানচির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্র

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি  

দীর্ঘ বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া বান্দরবানের থানচি উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং পর্যটনকেন্দ্র নাফাখুম ও তাজিংডং এবং রুমা উপজেলার বাকলাই ডবল পার্ট ঝরনা, সুংসংপাড়া ও রিঝুক ঝরনা আবারও সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রুমা উপজেলার কয়েকটি পর্যটন এলাকাও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এসব সড়ক ও স্থান সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আজ বুধবার গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর থানচির দুয়ার খুলল পর্যটকদের জন্য।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, থানচি উপজেলার তামাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার টিওবি পর্যন্ত এবং তিন্দুমুখ থেকে নাফাখুম পর্যন্ত সড়ক সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত ও রিঝুক ঝরনাও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে ভূমিধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতি বেশ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে।

সড়কগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে, তিন্দুমুখ ও নাফাখুম এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও স্থানগুলোর নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত করা সড়ক ও পর্যটন এলাকায় চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে, বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে পর্যটন খাতেও নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।