হোম > সারা দেশ > বান্দরবান

শরতে দুর্গম পাহাড়ে উদ্দাম ঝরনা-ঝিরি

মংবোওয়াংচিং মারমা, থানচি (বান্দরবান) 

দুর্গম অঞ্চলে বাস করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য বড় সংকট বিশুদ্ধ পানির অভাব। বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও গাছ কাটা, বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে নদী-নালা, ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে এ দুর্ভোগ এখন বছরের একটি বড় সময়ের চিত্র। তবে বর্ষা ও শরতের বৃষ্টিতে শুকনো মৌসুমে পানির চরম অভাবে থাকা ঝরনা ও ঝিরিগুলো যেন পূর্ণ যৌবন ফিরে পেয়েছে। ঝরনা থেকে পানি ঝরছে অবিরাম, ঝিরি দিয়ে কল কল শব্দে বয়ে চলেছে পানি। সহজেই বিশুদ্ধ পানি পাওয়া দুর্গম জনপদের মানুষ এখন আছে বেশ স্বস্তিতে।

দুর্গম পাহাড়ে বাস করা মানুষেরা জানান, বান্দরবানে বছরের অন্তত চার মাস পানি সংকটে পড়তে হয়। সেই চার মাস তীব্র গরমে ঝিরিতে পানি শুকিয়ে যায়। বিশুদ্ধ পানি খুঁজতে মাইলে পর মাইল হাঁটতে হয়। তবুও পানি পাওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু বর্ষা এবং তারপর শরতে এসে বিশুদ্ধ পানি পাওয়াতে তাঁরা আছেন স্বস্তিতে। যেসব ঝিরি মরার উপক্রম হয়েছিল, সেসব ঝিরি দিয়ে কল কল শব্দে বয়ে চলেছে পানি। এই পানি সংরক্ষণ করা গেলে বছরে অন্যান্য সময়েও সংকট কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা। 

বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্রো, বম, ত্রিপুরা, খুমি, চাক, মারমা, খিয়াং, তঞ্চঙ্গ্যা প্রভৃতি জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বাস বেশি। পাহাড়ি অঞ্চলে ঝিরি ও নদীর পানি সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পাহাড়ি বন ও পাথর। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই পাথরগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে পানি সংরক্ষণ ও সঞ্চয় করে। আর এই পানি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অবাধে পাথর উত্তোলনের কারণে পানি সঞ্চয়ের এ প্রাকৃতিক মাধ্যমগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাথর উত্তোলন এবং বন ধ্বংসের ফলস্বরূপ নদী ও ঝিরিগুলো মারা যাচ্ছে। কিন্তু বর্ষায় এবং তারপর শরতে পাহাড়ের বিভিন্ন ঝিরি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এদিকে পাহাড় থেকে ঝরনা বেয়ে নামছে বিশুদ্ধ পানি। যে জঙ্গলেই যাবেন মুগ্ধ হবেন পানি বয়ে চলার অবিরাম শব্দধারায়। 

সরেজমিন দেখা গেছে, বান্দরবান-থানচি ও রুমা-থানচি সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঝরনা থেকে পানি ঝরছে অবিরাম। পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় ঝিরিগুলোও যেন উদ্যাম গতিতে ছুটে চলেছে। দুর্গম জনপদে বাস করা মানুষেরাও পানি পেয়ে খুবই খুশি। 

বান্দরবানের মানবাধিকার ও সমাজকর্মী অংচমং মারমা বলেন, বান্দরবানে মার্চ থেকে জুন এই চার মাস পানি অভাব দেখা দেয়। কিন্তু এখন সব স্থানে পানি পড়ছে। দুর্গম এলাকায় জনগোষ্ঠীর এখন পানি সংরক্ষণ করার সময়। তা ছাড়া সরকার কিংবা প্রশাসন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করলে শুষ্ক মৌসুমে দুর্গমে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পানি সংকট কমে আসবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের’ বান্দরবান চ্যাপ্টার সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্গম এলাকায় প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয়। তাই যদি সারা বছর পানি পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাহলে দুর্গম এলাকায় পানির অভাব থাকবে না। এ জন্য সাধারণ মানুষের মাঝেও আনতে হবে সচেতনতা। প্রতিটি বাড়িতে যদি ব্যক্তি কিংবা সরকারের উদ্যোগে ওয়াটার রিজার্ভার তৈরি করা যায় তাহলে শুকনা মৌসুমে পানি পাওয়া যাবে।

বান্দরবানের থানচি: নতুন স্কুলভবনও ‘পরিত্যক্ত’

বান্দরবানে এনসিপি নেতার পদত‍্যাগ

বান্দরবান আসন: জামায়াত ঠেকাতে এককাট্টা বিএনপি-জেএসএস-আ.লীগ

শিক্ষক ও জনবলসংকটে ধুঁকছে বান্দরবান নার্সিং কলেজ

বান্দরবানে দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান, সরঞ্জাম উদ্ধার

বান্দরবানে যেসব ভোটকেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে হেলিকপ্টার

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ল নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাড়িতে

মরা গাছ ভেঙে পড়ার আতঙ্কে থানচি বাজারের বাসিন্দারা

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ১২ লাখ জাল টাকাসহ তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

আরাকান আর্মিদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৫০০ মশারি, আটক ৫