হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

বাগেরহাটে ৭ বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি

মেয়ে মুসলিমার বউ সাজা ছবি হাতে বাড়ির উঠোনে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বাবা ইসলাম শেখ। ছবি: আজকের পত্রিকা

হত্যার শিকার সাত বছরের মেয়ে মুসলিমার বউ সাজা ছবি হাতে বাড়ির উঠোনে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বাবা ইসলাম শেখ। আর কন্যাসন্তানকে হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা লাইলি বেগম। মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো কচুড়িয়া গ্রাম। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামে গিয়ে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।

গতকাল শনিবার বিকেলে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরের মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে খেলতে যায় শিশু মুসলিমা। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। এতে চিন্তিত হয়ে স্বজনেরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরের পানের বরজ ও একটি মাছের ঘেরের মাঝামাঝি স্থানে বস্তাবন্দী অবস্থায় মুসলিমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহটি পলিথিনে মোড়ানো ছিল।

স্বজনেরা জানান, প্রথমে জাহাঙ্গীরের বসতঘর ও বরজে খুঁজতে গেলে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী বাধা দেন। পরে সন্দেহজনকভাবে পালানোর চেষ্টা করলে এলাকাবাসী জাহাঙ্গীর শেখ (৫৫) এবং তাঁর দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) ও আব্দুর রহমানকে (১৯) আটক করে পুলিশে দেন। তবে ঘটনার পর থেকে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা জাহাঙ্গীরের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।

নিহত শিশু মুসলিমার বাবা ইসলাম শেখ বলেন, ‘আমার বাড়ি করার সময় রমজান টাকা চেয়েছিল। বলেছি—আমি তোরে টাকা দেব কেন। তখন রমজান বলেছে—বাড়ি করতেছ কিছু টাকা দিবা। তখন বলেছি—কোনো টাকা দিতে পারব না।’

ইসলাম শেখ বলেন, ‘টাকা না দেওয়ায় সে খেপে যায়। এ ছাড়া মেয়ের কানে এক জোড়া সোনার দুল ছিল, সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো দুলটি খুলে নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

মুসলিমার মা লাইলি বেগম বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী সব জানে। ওরা না জানলে বারবার আমাকে কেন বলবে, তোমার মেয়ে মোল্লাহাটের দিকে গেছে। আমার বুকটা খালি করে দিল।’

মোল্লাহাট থানায় মুসলিমার বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার করা তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, শিশু মুসলিমা হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।