বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রির জন্য দাখিল করা একটি নথিতে ৮টি অনলাইন জাল দাখিলা (ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ) শনাক্ত করা হয়েছে। জাল দাখিলা শনাক্ত হওয়ায় ওই জমির রেজিস্ট্রি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নথির সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকার জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য একটি নথি দাখিল করেন।
নথিটি যাচাই-বাছাই করে খতিয়ান নম্বর ৮৫৫-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৫৩৪০, খতিয়ান ৪৮৩-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৬৮৩৪, খতিয়ান ৪২৩-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৫৩২৫, খতিয়ান ৩৭৫-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৬৮৯৮, খতিয়ান ৫১-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৫৪০২, খতিয়ান ৩৭১-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৫৬৮৭, খতিয়ান ১৩১-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৫৬০১ এবং খতিয়ান ৬৫৮-এর দাখিলা নম্বর ৪৭১২২৬১৭৫৫৯৫ জাল বলে প্রমাণিত হয়।
সমীর কর্মকার বলেন, দাখিলাগুলো জাল প্রমাণিত হওয়ায় ওই দলিলের রেজিস্ট্রি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮টি জাল দাখিলাসহ নথির সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেনের কাছে দাখিলা জালের বিষয়ে লিখিত জবাব চাওয়া হবে। তাঁর জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিতলমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সহকারী দলিল লেখক সুব্রত রায় ওই দাখিলাগুলোসহ নথিটি আমাকে দেন। নথিতে স্বাক্ষর করে দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য আমি সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করি।’
দলিল লেখক সুব্রত রায় বলেন, ‘বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দাতা শাকিরুল বেগম ও গ্রহীতা মো. মাসুম কাজী জমিটি রেজিস্ট্রি করার জন্য আমাদের কাছে আসেন। মাসুম কাজী ওই দাখিলাগুলোসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের সরবরাহ করেন।’
গ্রহীতা মো. মাসুম কাজী বলেন, ‘বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কেনার জন্য নির্ধারণ হয়। এই জমির দলিল রেজিস্ট্রির জন্য দলিল লেখক আমার কাছ থেকে ৮১ হাজার টাকা নিয়েছেন। আর ১৬ হাজার টাকা দিয়ে জসিমের কাছ থেকে ওই দাখিলাগুলো সংগ্রহ করেছি।’
চিতলমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খাঁন মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই দাখিলা জালের ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। যারা এই জাল চক্রের সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের শাস্তি দাবি করি।’
হিজলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব বলেন, ‘বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে বোয়ালিয়া মৌজার খাজনা আদায় ও দাখিলা দেওয়া বন্ধ রয়েছে।’
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ আমাকে কিছু বলেননি। রেজিস্ট্রি অফিসে যে ব্যক্তি জাল দাখিলা দাখিল করেছেন, সাব-রেজিস্ট্রার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’