হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

পলেস্তারা খসে পড়ার ভয়ে মাথায় হেলমেট পরে কাজ করেন কর্মকর্তা

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 

মাথায় হেলমেট পরে দাপ্তরিক কাজ করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। গতকাল বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউপি ভবনে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাথায় হেলমেট। সামনে কম্পিউটার, টেবিলে সরকারি নথিপত্র। স্বাভাবিকভাবেই অফিসের কাজ করছেন শেখ মোর্শেদুর রহমান (৪০)। দেখলে মনে হতে পারে, কোনো নির্মাণকাজের তদারকি করছেন তিনি। কিন্তু না—এটি তাঁর নিয়মিত অফিসের দৃশ্য।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নম্বর বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এভাবেই দেখা গেল প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোর্শেদুরকে। শুধু তিনি নন, কার্যালয়ে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্য নূর নবীর মাথায়ও হেলমেট দেখা গেল।

কারণ জানতে চাইলে তাঁরা জানান, ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, প্রতিদিন ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে গায়ে পড়ছে। গত ছয় মাসে এখানে কমপক্ষে সাতজন সেবাগ্রহীতা আহত হয়েছেন। এ জন্য বাধ্য হয়ে তাঁরা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মাথায় হেলমেট পরে অফিস করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাদ ও বিমের বিভিন্ন স্থানে রড বের হয়ে আছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই ভবনেই সেবা নিতে ভিড় করেন ইউনিয়নের মানুষ। বিশেষ করে হলরুম, তথ্যসেবাকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে প্রতিদিনই মানুষের উপস্থিতি থাকে বেশি।

জানা গেছে, উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি প্রায় অর্ধশত বছর আগে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বুড়ো মুন্সির সময়কালে নির্মাণ করা হয়।

ইউপিতে সেবা নিতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসহাক শেখ, ধীরেন্দ্র নাথ ঢালী ও মেরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন বেহালদশা থাকলেও সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ নানা সরকারি সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের আয়া সবিতা রানী রায় জানান, পরিষদের এই ভবনের একটি রুমে তাঁদের কার্যালয় রয়েছে। গত রোববার ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে তিনি আহত হয়েছেন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

গ্রাম পুলিশ মো. নূর নবী ও মিঠুন ঘরামী জানান, প্রতিদিন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। সেগুলো সরাতে ও পরিষ্কার করতে সময় চলে যায়।

বড়বাড়িয়া ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোর্শেদুর রহমান বলেন, ‘এক বছর হলো এখানে কর্মরত। পরিষদ ভবনের একটি রুমও ভালো নেই। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেবা নিতে আসেন। অনেকের মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। গত ছয় মাসে এখানে কমপক্ষে সাতজন সেবাপ্রার্থী আহত হয়েছেন। বর্তমানে হেলমেট মাথায় দিয়ে কাজ করছি। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

বড়বাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার মোবাইল ফোনে বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পর এলজিইডি কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। তাঁরা ভবনটি মেরামতের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন বলে শুনেছি।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জেলায় একটি সভায় থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।