বাগেরহাটের ফকিরহাটে একটি বাড়িতে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে এক দম্পতিকে অচেতন করে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাফিজুর রহমান শিকারী (৭৭) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) মারা গেছেন। তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম রিনা (৬৮) অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বেতাগা এলাকার বাড়িটিতে হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁদের উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ওই বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে নুরুল ইসলাম রিপন চাকরির কারণে ঢাকায় থাকেন। গতকাল বুধবার রাতের কোনো এক সময় দুষ্কৃতকারীরা কৌশলে ঘরের ভেতর চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে। এতে ওই দম্পতি অচেতন হয়ে পড়লে ঘর থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
খবর পেয়ে আজ থানা-পুলিশ, সিআইডি ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশের ভাষ্য, ঘরের ভেতর মালামাল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। একটি জানালা খোলা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ঘটনার আগে কেউ ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। ওই ওষুধের বিষক্রিয়ায় হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।