অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ দেওয়া ঢাকা ওয়াসার সদ্য পদত্যাগ করা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুস সালাম বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। এ প্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল তাঁকে তলব করে চিঠি দেয় সংস্থাটি। চিঠিতে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য-সংবলিত বিভিন্ন নথি জমা দিতে বলা হয়।
দুদকের চাওয়া নথির মধ্যে ছিল– আব্দুস সালামের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের মূল কপি, স্ত্রী-সন্তানের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের আয়কর নথি এবং চাকরিজীবনের শুরু থেকে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিবরণ।
এর আগে গত ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাদিজাতুল কুবরা ওয়াসার এই এমডি আব্দুস সালাম বেপারীর দুর্নীতি অনুসন্ধানে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অবৈধ নিয়োগ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা এবং তার ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
গত ৩ মার্চ ‘কানাডার বেগমপাড়ায় ঢাকা ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়ি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরই অন্তর্বর্তী সরকারের এই নিয়োগ দেওয়া ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পাঁচ দিন পর, ৮ মার্চ তিনি এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এ দিকে একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আব্দুস সালাম ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকার আমাকে দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণ করেনি; বরং পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।’ স্বল্প সময়ের দায়িত্বকালে তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। বিদেশে সম্পদ থাকার বিষয়টিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন ওয়াসার এই সাবেক এমডি।
কানাডার ‘বেগমপাড়ায় সম্পদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দুর্নীতি দমন কমিশন আমার বিষয়ে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিয়েছিল। কেউ আমার বিরুদ্ধে ঘুষ বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারলে আমি মাথা পেতে নেব।’