আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে শুরু হয়েছিল নতুন রাজনৈতিক হাওয়া। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী, আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে নিয়ে শুরু হয়েছিল নানা জল্পনাকল্পনা। তবে আজ রোববার তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বলে জানা গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সীমানা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন আদালত। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে এই আসনকে একক আসন হিসেবে বহাল রেখে নির্বাচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী এই আসনে ২৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ২৭ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করা হয়।
জানতে চাইলে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তাঁরা যেভাবে বলবেন, সেভাবেই কাজ করব।’
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান বলেন, ‘চিন্তার কোনো কারণ নেই। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী। তিনি আমার জন্যই ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন। দল হয়তো ভবিষ্যতে তাঁকে অন্য কোনো উচ্চাসনে বসাবে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বিষয়টিকে কেন্দ্রের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ব্যাপার। এখানে আমার বলার কিছু নেই। তবে তাঁর যোগদানে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ একসময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৪ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালে তিনি গণফোরাম থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।