এক তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের শর্ত দেওয়া হয়েছে বাদীর সঙ্গে বিষয়টি আপস করতে হবে।
বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এর আগে, গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত এই গায়ককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নোবেলের পক্ষে তাঁর জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. রানা শেখ।
পরে আদালত কক্ষে বাদী ও আসামির মধ্যে সমঝোতার হয়। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি চলাকালে আদালত বাদীর কাছে আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদী অনন্যা ইতিবাচক সাড়া দেন। এরপর বিচারক দুই পক্ষের কাছেই জানতে চান তাঁরা আপস চান কি না। জবাবে নোবেল ও অনন্যা দুজনেই ‘হ্যাঁ’ বলেন। পরে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নোবেল বাদীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে শুনানি শেষে জামিনের আদেশ শুনে নোবেলকে হাসতে দেখা যায়। আদালতে উপস্থিত উৎসুক ব্যক্তিদের নোবেল বলেন, ‘জামিন হয়ে গেছে। জেলে যাওয়া লাগবে না। তোমরা যত জটিল ভেবেছিলে, এত জটিল না। এক কথায় জামিন হয়ে গেছে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তিনি আদালতে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অপকর্মের হিস্ট্রি আছে, তবে গ্রেপ্তারের পর বাদীর সঙ্গে আপসের কথাবার্তা চলছে।
গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেল, তাঁর মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, পরিচিত মাসুদ রানা এবং সহকারী মুনেম শাহ সৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন অনন্যা। পিবিআই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৭ জানুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেন। বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টায় অন্য আসামিরা তাঁকে সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার হন নোবেল। এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাদীকে বিয়ে করার পর নোবেল জামিন পান।