প্রবাসে শ্রম দিয়ে অর্জিত টাকায় পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চলতি মাসেই সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন রবিউল ইসলাম (২৫)। তাকে পাঠাতে বিভিন্ন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণসহ ৫ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করেছে তার অসচ্ছল পরিবার। কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই প্রবাস থেকে খবর আসে রবিউল আর নেই! অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার। এ দিকে সর্বস্ব হারানো পরিবারটি যখন শেষ স্মৃতি হিসেবে মরদেহের অপেক্ষায়, তখন সৌদি আরবে তার মরদেহ আটকে রেখেছে সেখানকার প্রতিষ্ঠান! পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এগারো হাজার রিয়াল (সাড়ে তিন লাখ টাকা) পেলে তার মরদেহ ছাড়া হবে তাদের জানানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে মরদেহ আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে মানববন্ধন করেছে রবিউলের পরিবারসহ এলাকাবাসী। রবিউল ইসলামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বন্ডপাশা গ্রামে। ওই গ্রামের আউয়াল মোল্যার বড় ছেলে। রবিউল ইসলামের আড়াই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে পৌঁছান রবিউল ইসলাম। এর মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ বুকে ব্যথা ও জ্বর হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সৌদি আরব স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
রবিউলের স্ত্রী তাপসী বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীর লাশ কোম্পানির লোক আটকিয়ে রেখেছে। সৌদিতে আমার স্বামীর এক আত্মীয় আছে; তারে দিয়ে কোম্পানির লোক বলছে- এগারো হাজার রিয়াল (সাড়ে তিন লাখ টাকা) লাগবে, তাহলে লাশ দেশে যাবে। কিন্তু এখন লাশ আনার টাকাও আমাদের নাই। আমাদের তো সমস্ত স্বপ্নই শেষ হয়ে গেল!’
সরকারের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আড়াই বছরের ছেলেকে কীভাবে বড় করব জানি না! সরকারের কাছে আকুল আবেদন, গ্রামের মাটিতে যেন আমার স্বামীকে দাফন করতে পারি। আমার ছেলেটা যেন ওর বাবাকে শেষ বারের মতো দেখতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জেনেছি এবং মৃতের পাসপোর্টের কপি সংগ্রহ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ আনার জন্য যোগাযোগ করেছি, ইনশাল্লাহ ব্যবস্থা হবে।’