নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে গ্যাস দেওয়ার বড়ি খেয়ে রিমু আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত রিমু আক্তার আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলীর স্ত্রী।
নিহতের স্বামী সেকেন্দার আলী বলেন, ‘সোমবার রাত আটটার দিকে স্ত্রীর অসুস্থ হওয়ার খবরটি জানার পর, দোকান থেকে বাড়িতে গিয়ে দেখি, সে খাটের ওপর পড়ে আছে। কাছে এগোতেই, ‘‘আমি গ্যাসের বড়ি খেয়েছি, হয়তো আর বাঁচব না। তোমার মেয়েকে দেখে রেখ।’’ এ কথা বলে সে।’
সেকেন্দার আলী আরও বলেন, ‘এরপর রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’
স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা জানান, নিহতের বাবা-মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। সংসারে অশান্তির সৃষ্টি যেন না হয়, সে কারণে ওই গৃহবধূ প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন। আজ মঙ্গলবার তাঁদের ডিভোর্স হওয়ার কথা ছিল বলে তাঁরা দাবি করেন। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলেও ধারণা তাঁদের। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
নিহতের বাবা নুর আলম বলেন, একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তাঁর একটু রাগ বেশি ছিল। এ কারণেই হয়তো মাথা গরম করে আত্মহত্যা করেছে।
বাবা-মায়ের ওপর রাগ করে আত্মহত্যা করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে নুর আলম বলেন, ‘আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ঝগড়াঝাঁটি হয়নি। তা ছাড়া আমাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।’
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, বিকেলে লাশ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।