স্তরে স্তরে সাজানো রঙিন মৌসুমি সবজি দিয়ে বানানো এক অভিনব পিরামিড। চারপাশে কৌতূহলী দর্শনার্থী, শিক্ষার্থীদের ভিড়, প্রশ্ন-উত্তরে ব্যস্ত কৃষি কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও কৃষিপ্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলায় এ দৃশ্য দেখা যায়।
গতকাল সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি সাধারণ পাঠাগার চত্বরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কৃষিপ্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হক সুমন মেলার উদ্বোধন করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। নিরাপদ ফসল উৎপাদন ও বাড়ির আঙিনায় পুষ্টিবাগান গড়ে তুললে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ সম্ভব। কৃষি এখন কেবল উৎপাদন নয়, পুষ্টি ও টেকসই জীবনের হাতিয়ার।’
মেলার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সবজির পিরামিড ছিল দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, শসা, কুমড়া, লাউ, গাজরসহ নানা মৌসুমি সবজি স্তরভিত্তিকভাবে সাজিয়ে বোঝানো হয়েছে, বৈচিত্র্যই পুষ্টির চাবিকাঠি। শিক্ষার্থীরা কাছে গিয়ে দেখছে, জানছে, আর শিখছে কোন সবজি কোন পুষ্টি দেয়, কীভাবে বাড়ির আঙিনায় সহজে ফলানো যায়। সব মিলিয়ে মেলা যেন এক কৃষি পাঠশালা হয়ে উঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এ মেলায় অংশ নিয়েছে মোট ৩০টি স্টল। মাঠপর্যায়ে সফল কৃষি কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ ফসল উৎপাদন, রাস্তার পাশ ও পুকুরপাড়ে সবজি চাষের কৌশল, মডেল কৃষিবাড়ি স্থাপন, ছাদবাগান ও মাশরুম চাষের বিশেষ প্রদর্শনী।
স্টলগুলোতে কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন কীভাবে কম খরচে বেশি ফলন, কীভাবে বিষমুক্ত সবজি, আর কীভাবে পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়। এতে আগ্রহ বাড়ছে নতুন প্রজন্মের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইজাহার আহমেদ খানসহ কৃষি বিভাগের অন্য কর্মকর্তারা।